শ্রী, কনককঙ্কন হাতছাড়া করে পুনরায় ত্রৈমাসিক অপেক্ষার প্রহর চলমান। এরই মাঝে এসে পড়েছে বর্ষা, তীব্র ঝড়-বৃষ্টি। শুনেছি, রেললাইন ডুবে গেছে, সারাতে কত সময় লাগবে জানা নেই।
এটা আমার জন্যে একটা মহা সমস্যা, একে তো আমি ট্রেন ছেড়েছি, তার উপর ক্রমাগত কালক্ষেপণ। কালক্ষেপণ থেকে মনে পড়লো, তোমার বর্ষা কেমন যায়, শ্রী? কালের সাক্ষী থেকে একটি বর্ষা কাটিয়েছি আমরা।
কখনো তোমার হাত ধরে, কখনো তোমাকে শাসিয়ে, কখনোবা শুধু তোমার দিকে তাকিয়ে, পেরিয়ে গেছে ঋতুচক্রের এক পূর্ণ আবর্তন। এরই মাঝে আমাদের কত মনোমালিন্য, কত বোঝাপড়া, দিনশেষে আমি আহ্লাদে ডুবে যাই শ্রী-র অমলিন ছোঁয়ায়। তোমার কি মনে পড়ে, শ্রী?
প্রতিবার তোমার হাত ছাড়তে ভয় করে, জানো? যদি আমি আবার ধরতে না পারি? যদি তুমি হারিয়ে যাও তীব্র অন্ধকারাচ্ছন্ন কোনো অসীম দূরত্বের ছায়াতলে?
তবে আমি এক ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলব সেই অন্ধকারের বুকে। আমার আলো হয়তো পুরো আকাশকে আলোকিত করবে না, কিন্তু তোমার ফেরার পথটুকুকে এক ফোঁটাও অন্ধকার থাকতে দেবে না। তুমি পারবে না এসে আমার হাত ধরতে?
হৃদয় জুড়ে এক অতল আতঙ্ক নেমে আসে, যদি নিজ থেকেই না আসো? আসবে না বলো?
আচ্ছা শ্রী, তোমায় আমি এতো পত্র পাঠাই, তোমার কি বিন্দুমাত্র সময় হয় না আমাকে ফিরতি পত্র পাঠাতে?
বৃষ্টি থামুক, আসছি কনককঙ্কন চেপে পুনরায়। আসছি তোমার ছোঁয়ায় আবিষ্ট হতে, পুনরায়।
শ্রী, শুনছো? অন্ত কি প্রারম্ভিকা পাচ্ছে?