শ্রী,
আজ তোমার সনে পুনরায় ত্রৈমাসিক সাক্ষাতের দিন। তোমার ঠিকানায় গাড়ী নিয়ে যাওয়ার রাস্তা দূরে থাক, পায়ে হেঁটে যাওয়ার ব্যবস্থাও নেই। আছে শুধু ট্রেন।ট্রেনটা-ও এমন, ত্রৈমাসে একবার যাত্রা করে। এই একবার যাত্রার জন্যে আমার দীর্ঘ অপেক্ষা।
টিকিট পাই না, সিট পাই না। এবার অনেক কষ্টে টিকিট কেটেছি।
ট্রেনের নাম-ও অদ্ভুত সুন্দর, “কনককঙ্কণ এক্সপ্রেস”।
কনককঙ্কন এর অর্থ সোনার তৈরি চুড়ি। তোমার সাথে আমার এহেন ত্রৈমাসিক দেখাও সোনার খনি পাওয়ার সমান। চুড়ি থেকে মনে পড়লো, হাতের চুড়ি ভেঙে যাওয়া অশুভ লক্ষণ, তাই না? কালকে কিনতে গেলাম, হাত থেকে পড়ে ভেঙে গিয়েছিলো। দোকানি আর বিক্রি করেনি, অদ্ভুত।
হাল ছাড়িনি, অন্য দোকান থেকে কিনেছি, যত্নে, যেন সব অশুভকে হার মানালাম।
খুব ভোরে বেরিয়েছি, জীবন হয়তো পিছিয়ে পড়বে, কিন্তু ট্রেন ছাড়া চলবে না। সেই কবে ডায়েরির পাতায় লিখেছিলাম ‘দোলনচাঁপা আমার শ্রী-র ফুল’, আজ তোমার অলকবন্ধনে গুঁজে দেওয়ার জন্যে সেই স্নিগ্ধ দোলনচাঁপা নিয়েই পৌঁছে গিয়েছি স্টেশন। উঠে বসলাম সিট ত-০২ এ।
পাশের ট্রেন শেষ শিস বাজিয়ে রওনা দিল। ভালোই লাগলো শুনে, হয়তো ওই ট্রেনেও আমার মতন কেউ যাচ্ছে তার শ্রী-র কাছে।
কানে হেডফোন গুঁজে দিলাম। বাজছে,
“ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখো—
তোমার মনের মন্দিরে..”
এই গান শুনি না বহুদিন, তুমি তোমার সাথে আমার সব গানও যেন নিয়ে গিয়েছো। তবু আজ শুনি, একা। এক যাত্রী আসলো, শুধালো,
“ভাই, এটা আমার সিট”।
থমকে গেলাম, “মানে?”
“জ্বি ভাই, এটা আমার সিট!”
হাতে আমার টিকিট, ত-০২, তবুও গলা শুকিয়ে আসে।
“ভাই, আপনার ট্রেন তো মাত্রই স্টেশন ছেড়ে গেল।”
চোখের সামনেই কনককঙ্কণ ছুটে গেলো। ভাঙা চুড়ি কি তবে সত্যিই অলক্ষুণে?
ভেঁপু শুনি, আরেকটি ট্রেন ঠিকই আসে। কিন্তু প্রথম ট্রেনের শূন্যতা বুকে নিয়ে, দ্বিতীয়টায় চড়ার সাহস কুলায় না।