আজ সারাদিন ব্যস্ত সময় কেটেছে, পুরোনো বাসা ছেড়ে দিচ্ছি, সব গোছগাছ করতে করতেই দিন শেষ।
একটু শুয়ে ফোন স্ক্রল করছি, দিদি ডাকতে ডাকতে এগিয়ে আসছে, হাতে হলুদ মলাটের একটা খাতা।
'কিরে কবি, কি কি লিখিস এই খাতায়?'
'কিছু নাহ্!'
'তবে আজ সারারাত জাগি,
নিকষ কালো আঁধারে,
তোমার গল্প লিখি!'
'.. এটা কি ভূতের লেখা নাকি রে?'
মনে পড়েছে, এটা তো আমার ডায়েরি! আমি ডায়েরি ভেবে হলুদ খাতাটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়েছি।
'এই, তোমাকে খাতা খুলতে বলেছে কে?'
দিদি হেসেই যাচ্ছে, আমি রাগ করে চেয়ে আছি ওর দিকে। খাতাটা আবার খুলে হঠাৎ একটা পৃষ্ঠা থেকে বড় করে একটা লাইন পড়ে ফেললো, 'তবে আজ আমাদের দেখা হয়নি, তোমার খিটখিটে মামার আজকেই হাঁটতে বের হতে হলো।'
খাতাটা টান দিয়ে নিয়ে ফেলেছি, এত্ত সাহস ওর! আমার ডায়েরি খুলে পড়ছে।
'মা, এই ঘরে প্রাইভেসি বলতে কিছু নেই? তোমার মেয়েকে বারণ করো আমার খাতা না ধরার জন্যে পরেরবার থেকে, নয়তো খুব অসুবিধে হবে।'
মা এসে দিদির কান মুলে দিলো, সে এখনো হাসছে। মা বোধহয় শুনতে পেয়েছে দিদির বড় স্বরে বলা লাইনগুলো, মা নিজেও একটু হাসছে।
'কিরে বাবা? বৌমাকে নিয়ে লিখেছো নাকি?'
'আরে না, আমি একটা গল্প লিখছিলাম।'
'তুমি গল্পও লেখো আজকাল? দারুণ তো, শেষ হয়েছে?'
'উহু, হয় নি।'
'আচ্ছা হলে আমাকে পড়তে দিও, আমার ছেলের লেখা আমিই সবার আগে পড়বো!'
দিদি বলে উঠলো, 'তোর হৃদয়বিদারক দেখা করার গল্প শেষ হলে আমাকেও পড়তে দিস।'
'ঢের শিক্ষা হয়েছে আমার। আমি যাকে তাকে পড়তে দেই না, মাফ করো!'
হঠাৎ দিদি এত হাসছে কেন? তবে কি ডায়েরিতে রাখা তোমার পাঠানো খামটা দেখে নিয়েছে? ওরা রুম থেকে বের হতেই ডায়েরি তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম, কয়েকটা পুরোনো খাম আছে। কিন্তু তোমার গোলাপী খামটা নেই!